বিষয়বস্তুর দিকে


বিজয়ী নির্ধারণ করলেন জুরিমণ্ডলী


অবশেষে সব প্রতিক্ষার সমাপ্তি৷ ডয়চে ভেলে’র অষ্টম আন্তর্জাতিক ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতা ‘বেস্ট অব বব্স’ বা দ্য বব্স-এ, দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর, আন্তর্জাতিক জুরিমণ্ডলী নির্ধারণ করেছেন বিজয়ী

মোট ৩,২০০টিরও বেশি প্রস্তাব থেকে বিভিন্ন ভাষার জুরি ছয়টি মূল বিভাগের জন্য একটি করে ব্লগ নির্বাচন করেছেন৷ শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতার মোট ১৭টি বিভাগে আপনাদের দেয়া অনলাইন ভোটের মাধ্যমেও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে ‘ইউজার প্রাইজ’-এর তালিকা৷

২০১২ সালের ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের মধ্যে ‘সেরা ব্লগ’ নির্বাচিত হয়েছে আরাস সিগারচি-র ব্লগ ‘উইনডো অব অ্যাঙ্গুইশ’ বা বেদনার জানালা৷ নিজের জন্মভূমি থেকে নির্বাসিত এই ব্লগার অবিরাম লিখে চলেছেন সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে৷ ২০০৮ সাল থেরে সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হলেও, নিজের দেশকে তিনি ভুলে যান নি৷ বরং নিজের লিখনিতে তুলে ধরেছেন ইরানে মানবাধিকার লংঘনের বিভিন্ন ঘটনা৷ ইরানে থাকাকালে আরাস সিগারচি বহুবার আটক হন এবং এরপর, ১৪ বছরের কারাবাসের সাজা হয় তাঁর৷ শুধু তাই নয়, ব্লগে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করায় সরকারের রোষানলে পড়েন সিগারচি৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই, ডয়চে ভেলের এই পুরস্কার ইরানের ব্লগোস্ফিয়ারের জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি, জানান আরাস৷

‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে বাংলা ব্লগও

ছয়টি মিশ্র ক্যাটেগরির একটি, রিপোর্টার্স উইথাউট বর্ডার্স অ্যাওয়ার্ড (সীমানাবিহীন সাংবাদিক পুরস্কার) জয় করেছে আবু সুফিয়ান’এর বাংলা ব্লগ৷ আবু সুফিয়ান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ বিভিন্ন অনুসন্ধানী নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকেন, যা মূলধারার গণমাধ্যমে সব খবর প্রকাশ সম্ভব হয় না৷ সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনির খুনির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি সম্বলিত বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ হয়েছে তাঁর ব্লগে৷ মানুষের ‘তথ্য জানার অধিকার’-কে নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছেন সুফিয়ান৷ অনুসন্ধানী নিবন্ধ লিখে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, বার বার৷ তবুও অন্যায়ের প্রতিবাদে তাঁর অবস্থান অনঢ়৷

এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত আবু সুফিয়ান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন৷ একজন ব্লগার হিসেবে, একজন সাংবাদিক হিসেবে এবং বাংলাদেশের একজন মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, এটা অনেক বড় পাওয়া৷ আমি মনে করি এটি সমস্ত বাঙালি ব্লগার এবং বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অর্জন৷”

এছাড়া এবছর অন্যান্য জুরি অ্যাওয়ার্ডবিজয়ীরা হলেন:

·     বেস্ট সোশাল অ্যাক্টিভিজম ক্যাম্পেইন (সেরা সামাজিক আন্দোলন) – ফ্রি সিরিয়ান ব্লগার অ্যান্ড অ্যাক্টিভিস্ট রাজান গাজাভি

·     স্পেশাল টপিক অ্যাওয়ার্ড (বিশেষ বিষয় পুরস্কার: শিক্ষা ও সংস্কৃতি) – ফাসোকান

·     বেস্ট ইউজ ইফ টেকনোলজি ফর সোশাল গুড (সামাজিক সচেতনতায় প্রযুক্তি) –  হ্যারেসম্যাপ

·     বেস্ট ভিডিও চ্যানেল (সেরা ভিডিও চ্যানেল) – কুয়াং কুয়াং

আমাদের তরফ থেকে সমস্ত জুরি এবং ভোটিং বিজয়ীদের অভিনন্দন! আগামী ২৬শে জুন বনে ডয়চে ভেলের ‘গ্লোবাল মিডিয়া ফোরাম’-এ শুধুমাত্র ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে৷